বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ, রফিকুল ইসলাম রাসেল, বরিশাল : বাঙ্গালীর প্রধান ফসল হল ধান সুধু ফসল হিসেবেই নয়, প্রধান খাদ্যও হলো ভাত।ভাত আসে ধান থেকে।সেই ধানের বীজকেই বাকেরগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে বিষ প্রয়োগ করে নষ্ট করে ফেলেছে দাড়িয়াল ইউনিয়নের মৃত: আফতাবের ছেলে ভুমিদস্যু হিসেবে পরিচিত আলম খান (৬০)। ৮ নং ওয়ার্ডের মৃতঃ মোহাম্মদ আলীর ছেলে আমিনুল ইসলাম (৪৫) জানান,অভিযোগ সুধু আমার একার নয় এই ভুমিদস্যু আলম খানের বিরুদ্ধে দাড়িয়াল ইউনিয়নের শতশত নারী-পুরুষের হাজারো অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু কোন অভিযোগই তাকে বিন্দু মাত্র টলাতে পারেনি।তাই এখন দাড়িয়াল ইউনিয়নের মানুষের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে এই ভুমিদস্যু আলম খানের খুঁটির জোর কোথায়?
আমিনুল ইসলাম জানান,৭ নং ওয়ার্ডের, বিষারীকাঠী, চড়খন্ঠে আমাদের প্রায় তিন একরের মত জমি রয়েছে। যা আমরা ওয়ারিস সূত্রে মালিক,যার জে,এল নং ১০৮ ও খতিয়ান নং ২১৪,২১৫, আমার বাবা, আমার দাদা ওই জমিতে ধান,ডাল,তরমুজ সহ বিভিন্ন ফসলাদি লাগিয়ে বছরের পর বছর ভোগ দখল করে আসছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল হঠাৎ করে সেখানে চোখ পড়লো ভুমিদস্যু আলম খানের। সে কয়েক বছর যাবৎ আমাদের জমি জোর পুর্ব্যক দখল করার জন্য সব সময়ই পাঁয়তারা করে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমি ধান রোপনের জন্য জমিতে দেড় মন ধানের বীজ ফালাই। খুব সুন্দর হয়েছিল জমির বীজগুলো হঠাৎ জানতে পারলাম প্রত্যক্ষদর্শী মহসীন বয়াতি ও কাঁলাচাদ দাসের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) বিকেল ৫ টার দিকে আমার জমির সব বীজ, বিষ প্রয়োগ করে নষ্ট করে ফেলেছে ভুমিদস্যু আলম খান। আমি এই কথা শোনার সাথে সাথেই আমার জমিতে গিয়ে দেখি ঘটনা সত্য।আমার প্রায় লক্ষাধিক টাকার বীজ নষ্ট করে ফেলেছে এই ভুমিদস্যু আলম খান।
অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে যায় সাংবাদিকদের একটি টিম। ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে দাড়িয়াল ইউনিয়নের অনেক মানুষ আসে সাংবাদিকদের কাছে ভুমিদস্যু আলম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে। এমনকি বাদ যায়নি মসজিদের ইমামও। ওই জমির পাশের বাড়ি রেজাউল সরদারের ও ইব্রাহিম দেওয়ানের তারা বলেন, এর কারণে আমাদের ঘর বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হবে।কত আর নির্যাতন সহ্য করা যায়।
একই ওয়ার্ডের রুহুল তালুকদার বলেন, আমাদের জমিও জাল দলিল করেছে এই আলম খান। রুহুল আরও বলেন, এই দাড়িয়াল ইউনিয়নে যত জমি রয়েছে তা এই আলম খানের প্রয়োজন। মোট কথা জমি দখল করা তার একটা নেশায় পরিণত হয়েছে।
সিদ্দিক বাজার মসজিদের ইমাম বলেন, এমনকি আমার সাথেও রয়েছে জমি নিয়ে আলম খানের মামলা।ওনার লোলুপ দৃষ্টি থেকে আমার জমিটুকুও বাদ যায়নি। ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার জসিম বলেন, আমি যখন মেম্বার ছিলাম আর যখন আমি পরিষদে যেতাম তখন এমন কোন দিন নেই যে এই আলম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসতোনা। এখনও ওনার বিরুদ্ধে পরিষদে ১০-১৫ টি অভিযোগ জমা রয়েছে। কিন্তু উনি কিছুতেই কিছু মনে করেনা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আলম খান জেলা পরিষদের পিয়নে চাকরী করতেন। এবং নিজ ছেলে পুলিশে চাকুরী করায় কাউকে কিছু মনেই করেনা। বরং সবাইকে বিভিন্ন রকমের মামলা হামলাসহ হয়রানী করে থাকে।
৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলম বলেন, মানুষ যে এত নগন্য হতে পারে তা আমার জানা নেই,এই আলম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই।আমার মনে হয় আমার ৭ নং ওয়ার্ডে কেউ তাকে ভালো বলবে। কোন মানুষ কি ধানের বীজ ও নষ্ট করতে পারে, সেও কি মানুষ। আমি একজন ইউপি সদস্য হিসেবে মনে করি তার কঠিন বিচার হওয়া উচিৎ।প্রত্যক্ষদর্শী মহসিন মিয়া বলেন, আমিনুল আমার পুত্রা হয় ব্যবসার তাগিদে সে ঢাকায় থাকে যার কারণে আমি তার জমি ৫-৬ বছর যাবৎ দেখাশুনা করি। প্রায় সময়ই দেখতাম আলম খান তার জমি জোর পুর্ব্যক দখল করতে চাইতো। এর কাজই হল অন্যর জমি জোর পূর্বক দখল করা।
আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে অবহিত করেছি। এবং মামলা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে আলম খান বলেন, এই জমি নিয়ে সুধু আমার সাথে ঝামেলা না আর অন্যান্য লোকদের সাথেও ঝামেলা রয়েছে। কে বা কারা ওই ধানের বীজে বিষ প্রয়োগ করেছে তা আমি জানিনা।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply